একই ঘটনার স্মৃতি দুই মানুষের কাছে আলাদা হলে সহজেই মনে হয়, একজন নিশ্চয়ই অসতর্ক বা অসৎ। কোনো বিবরণ ভুল হতেই পারে। তবে পার্থক্যটি এ-ও জানাতে পারে, কে কোথায় ছিলেন, কী লক্ষ করেছিলেন এবং ঘটনাটি তাঁর জীবনে কী অর্থ বহন করেছিল।
ইতিহাস পড়তে সহমর্মিতা ও যাচাই দুটোই দরকার। সহমর্মিতা দিয়ে বোঝা যায় স্মৃতিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ। যাচাই জানতে চায়, এর তথ্যগুলো সমর্থন করা যায় কি না। প্রথমটি না থাকলে মানুষ নথির সংখ্যা হয়ে যায়; দ্বিতীয়টি না থাকলে আকর্ষণীয় গল্পকে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা মনে হতে পারে।
ঘটনা এবং পরে তৈরি হওয়া ব্যাখ্যাকে আলাদা করা সহায়ক। ঘটনার সময় লেখা দিনলিপি ও বহু বছর পরে নেওয়া সাক্ষাৎকার এক প্রশ্নের উত্তর দেয় না। দিনলিপিতে তখনকার অনিশ্চয়তা থাকতে পারে, যা স্মৃতিতে পরে মুছে গেছে। সাক্ষাৎকারে এমন ফলের কথা জানা যেতে পারে, যা ঘটনার সময় বোঝা সম্ভব ছিল না।
নীরবতাও সহজ প্রমাণ নয়। লিখিত বিবরণ নেই মানেই কোনো অভিজ্ঞতা ঘটেনি, তা নয়। আবার সেই অনুপস্থিতি আমাদের ইচ্ছামতো বিশ্বাসযোগ্য শোনানো গল্প বসিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেয় না। দায়িত্বশীল ব্যাখ্যায় ফাঁকটি দৃশ্যমান রাখা উচিত।
ইতিহাস শেখা তাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মতকে সমর্থন করে এমন বক্তব্য জমানো নয়। এটি জটিলতার প্রতি ধৈর্য চর্চা। পূর্বসূরিদের গল্পকে মূল্য দিয়েও তার তথ্য পরীক্ষা করা, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি মেলানো এবং অতীতকে সহজ শিক্ষার চেয়ে বেশি জটিল থাকতে দেওয়া যায়।
