Skip to content
← All writing

World politics

কূটনীতিতে শোনার গুরুত্ব

জনসমক্ষে কূটনীতিকে অনেক সময় তীক্ষ্ণ বক্তব্যের প্রতিযোগিতা মনে হয়। শক্ত ভাষার বক্তৃতা সহজেই শিরোনাম হয়; নীরব আলোচনার খবর ততটা চোখে পড়ে না। অথচ নিজের অবস্থান রক্ষা করার পাশাপাশি অপর পক্ষকে বোঝার কাজটিও গুরুত্বপূর্ণ।

জনসমক্ষে কূটনীতিকে অনেক সময় তীক্ষ্ণ বক্তব্যের প্রতিযোগিতা মনে হয়। শক্ত ভাষার বক্তৃতা সহজেই শিরোনাম হয়; নীরব আলোচনার খবর ততটা চোখে পড়ে না। অথচ নিজের অবস্থান রক্ষা করার পাশাপাশি অপর পক্ষকে বোঝার কাজটিও গুরুত্বপূর্ণ।

শোনা মানে একমত হয়ে যাওয়া নয়। অন্য পক্ষ কী নিয়ে ভয় পাচ্ছে, কী চাইছে এবং কোন জায়গায় ছাড় দেওয়া অসম্ভব মনে করছে, তা বোঝার চেষ্টা। এই ধারণা ছাড়া সুন্দর প্রস্তাবও এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, যা আলোচনায় কেউ আসলে করছে না।

তবে শোনার গুরুত্ব বলে ক্ষমতার অসমতা আড়াল করা যাবে না। কোনো পক্ষ সহজে আলোচনা দীর্ঘ করতে পারে, অন্য পক্ষের জন্য অপেক্ষার প্রতিটি দিন কঠিন হতে পারে। তাই কারা আলোচনায় বসতে পারছে, কাদের কথা নথিভুক্ত হচ্ছে এবং দুর্বল কণ্ঠের বাস্তব প্রভাব আছে কি না, সেসব প্রশ্ন জরুরি।

ভাষার দিকেও মনোযোগ দরকার। এক শ্রোতাকে আশ্বস্ত করার বাক্য অন্য শ্রোতাকে উদ্বিগ্ন করতে পারে। প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি সমঝোতার সুযোগ সংকুচিত করে, বিশেষ করে অবস্থান পরিবর্তনকে দায়িত্বশীল পুনর্বিবেচনার বদলে অপমান হিসেবে দেখানো হলে।

দূর থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি দেখার সময় বক্তব্যের প্রদর্শন ছাড়িয়ে দেখা দরকার। যোগাযোগের কোন পথ খোলা আছে? কী বিষয়ে সত্যিই সম্মতি হয়েছে? বাস্তবায়নের জন্য কী লাগবে? কে কথার লড়াইয়ে জিতল, তার চেয়ে এই প্রশ্নগুলো কম নাটকীয়। কিন্তু মানুষের জীবনে আলোচনার মূল্য বোঝার জন্য এগুলো বেশি কার্যকর।

WRITTEN BY

Forhad Reza

More by this author ↗