প্রতিদিন বিকেলে পাঠাগারের জানালার পাশের চেয়ারটি ফাঁকা থাকত। তারপর ধূসর চুলের একজন মানুষ ভাঁজ করা খবরের কাগজ হাতে এসে বসতেন। কাগজের পাতা খুব একটা ওল্টাতেন না। কাচের ওপারে ব্যাগ আর ছাতা হাতে ছুটে চলা মানুষগুলোকে দেখতেন।
বই ফেরত দিতে এসে মায়া তাঁকে প্রথম লক্ষ করেছিল। পরের সপ্তাহে সে জানতে চাইল, পাশের চেয়ারটায় বসা যাবে কি না। মানুষটি মাথা নাড়লেন। কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না। বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বললেন, এই শব্দ তাঁকে শৈশবের বাড়ির টিনের চালের কথা মনে করিয়ে দেয়।
মায়া ভেবেছিল আবহাওয়া নিয়ে দু-একটি কথাই হবে। অথচ সে শুনল একটি উঠান, একটি আমগাছ আর এক বোনের গল্প। সেই বোন পায়ের শব্দ শুনেই চিনতে পারত কে আসছে। মায়াও নিজের ছোট্ট বারান্দার কথা বলল। তাঁদের পরিচিত জায়গাগুলো বোঝাতে কোনো মানচিত্র লাগল না।
বৃহস্পতিবারের বিকেলে এই কথোপকথন অভ্যাস হয়ে গেল। কখনো বই নিয়ে আলোচনা হতো, কখনো সিনেমার শেষ দৃশ্য নিয়ে মতের অমিল। মায়া বুঝতে পারল, প্রতিবার দরকারি কিছু বলতেই হবে না। মন দিয়ে শোনার জন্য আগে থেকে উত্তর তৈরি করে আনতে হয় না।
এক বৃহস্পতিবার মানুষটি এলেন না। পাঠাগারের কর্মী একটি খবর দিলেন: পরিবারের কাছে গেছেন, পরের সপ্তাহে ফিরবেন। মায়া হাসল। জানালার পাশে বসে বই খুলল, অন্য চেয়ারটি খালি রাখল। একসময় যে জায়গাটিকে নিছক ফাঁকা মনে হয়েছিল, এখন মনে হলো সেখানে কারও ফিরে আসার কথা আছে।
এটি একটি মৌলিক কাল্পনিক গল্প। এর চরিত্র ও ঘটনা কল্পিত।
