পুরোনো একটি অভিধানের ভেতর খামটি পেল আরিফ। কোনো ডাকটিকিট ছিল না। শুধু নীল কালিতে যত্ন করে লেখা একটি নাম। চিঠির শুরুতে ফোন করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ, আর শেষে একসঙ্গে আবার খেতে বসার ইচ্ছা।
মাঝের কথাগুলো ছিল সাধারণ জীবনের। ভিড়ের বাস, শীতল রান্নাঘর, ভাঙা স্যুটকেস সিঁড়ি দিয়ে তুলতে সাহায্য করা প্রতিবেশী। বড় কোনো ঘোষণা ছিল না। দূরের একজন মানুষকে লেখক শুধু জানাতে চেয়েছিলেন, কঠিন সপ্তাহটা শেষ পর্যন্ত একটু সহজ হয়েছে।
আরিফ চিঠিটি টেবিলে রাখল। মালিককে খুঁজে বের করার কথা ভাবল। কিন্তু নামটি পরিচিত ধরনের, ঠিকানা নেই। নিজের মতো একটি গন্তব্য বানিয়ে দিলেই তো চিঠি বাড়ি পৌঁছাবে না। তাই যে পাতার ভেতর ছিল, সেখানেই আবার রেখে দিল।
সন্ধ্যায় সে মাকে ফোন করল। সাধারণত সংক্ষিপ্ত খবর দিত: কাজ ভালো, খাওয়া ভালো, সব ভালো। সেদিন বলল পুরোনো প্লাস্টিকের পাত্রে পুদিনা লাগানো প্রতিবেশীর কথা, স্টেশনের বাইরের একজন গায়কের কথা। মা বললেন বাড়ির ফটক মেরামতের কথা। উঠানকে নিজের বাড়ি বানিয়ে নেওয়া বিড়ালটির গল্প বলতে গিয়ে হাসলেন।
দূরত্ব তখনো একই রয়ে গেল। তবু ফোন রাখার পর আরিফের মনে হলো, তার জীবনের আরও কিছুটা বাড়িতে পৌঁছেছে। পরদিন সকালে সে একটি খাম কিনল। হারানো চিঠি তার পাঠককে পাবে কি না, সে জানে না। নিজের চিঠিটা কোথায় যাবে, অন্তত তা জানে।
এটি মৌলিক কল্পকাহিনি, লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ নয়।
